বেনাপোল থেকে এনামুল হক:
এক সময় ঢাকার সদর ঘাটের পান ছিল বিখ্যাত। সেকালে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে পানের সুখ্যাতি। পান নিয়ে নানা গল্প করতেন প্রবীণরা। এমনকি সিনেমা, থিয়েটারের স্ক্রিপ্টেও স্থান পায় এই পানের গল্প কাহিনি। বন্ধুর ভালোবাসা দিতে ও পেতে পানের খিলি দিয়ে সমাদর করা হতো।

আজ আর সেই সদর ঘাটের পানের সুখ্যাতি না থাকলেও কালের আবর্তে পানের সুখ্যাতি এখন বেনাপোলে। ছোট্ট একটি পানের দোকান, নাম পচা পান ভান্ডার। দোকানদার আয়ুব হোসেন মল্লিক পানের খিলি বিক্রি করতে করতে পানের প্রতি তার ভালোবাসা এবং তার তৈরি খিলি পানের প্রতি ক্রেতাদের ভালোবাসা আজ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার তৈরি পানের খিলির স্বাদ আর গন্ধ ক্রেতাদের হৃদয় কেড়েছে। এ দোকানের পান খেতে সকাল-সন্ধ্যা ভিড় জমায় ক্রেতারা। তার দোকানের চারপাশে সাঁটানো আছে নানারঙের সাইনবোর্ড, ব্যানার আর ফেস্টুন। ভারতের নায়ক, নায়িকাসহ সংস্কৃতিমনা মানুষের সাথে রয়েছে তার নানারকমের ছবি। ব্যানারে লেখা আছে পানের খিলি নিয়ে হরেক রকমের ছন্দ আর কবিতা।
তার দোকানের পানের খিলির ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ। আর এ স্বাদের রয়েছে হরেকরকম নাম এবং নাম বিশেষ দাম। ৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত প্রতি খিলি পানের দাম এখানে। অমিতাপ বচ্চন পানের খিলির দাম ১৫ টাকা, বৌরানী মিষ্টি পান ২০ টাকা, নবাব পান ১০ টাকা ও সাধারন পান ৫ টাকা। ১৮ বছর ধরে এ দোকানে পানের খিলি বিক্রি করেন আয়ুব হোসেন মল্লিক। তিনি জানান, প্রতিদিন তার দোকানে ৮শ’ থেকে ৯শ’ পানের খিলি বিক্রি হয়। কোনো কোনো সময় বিয়ে বাড়িতেও তার পানের খিলির অগ্রিম অর্ডার থাকে। তবে বিয়ে বাড়ি তিনি পান দিয়ে থাকেন বউরানী মিষ্টি পানের খিলি। তাছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন উৎসবে এই পচার পান ভান্ডার থেকে সু-স্বাদু হরেকরকমের পানের খিলি পার্সেল অর্ডারের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন। বেনাপোল সীমান্তে ভ্রমণ করতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের পচা পান ভান্ডারের এক খিলি পান না খেলে যেন ভ্রমণ অসমাপ্ত থেকে যায়।
ভারতের বিভিন্ন রকমারি মসলা ব্যবহার করাতেই তার পানের খিলি এত সুস্বাদু। তাছাড়া ভারতীয় বাবা জর্দা-১২০, ৩০০, ৬০০ এবং সুরভী জর্দা পানের খিলিতে ব্যবহার করে থাকেন তিনি। আর মিষ্টি পানে ব্যবহার করে থাকেন চমন বাহার জর্দা। চৌগাছা উপজেলায় পান চাষিদের নিজস্ব জমিতে খৈল ব্যবহার করে উৎপাদিত এ পানের স্বাদ খুবই বেশি। সেখান থেকে আনা হয় এ সব পান। তার এ পানের খিলি একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করে। পচা পান ভান্ডারে পানের খিলি কিনতে আসা ক্রেতা মেহেদী হাসান জানান, প্রতিদিন তিনি ৩০টি পানের খিলি খেয়ে থাকেন, যা এখান থেকেই কেনেন।
পচা পান ভান্ডারের মালিক আয়ুব হোসেন মল্লিক বলেন, ‘বেনাপোল দুর্গাপুর সড়কে ১৯৯৮ সালে এই দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন আমার ভাই রফিকুল ইসলাম। সে মারা যাওয়ার পর থেকে আমি এটি পরিচালনা করে আসছি। প্রতিদিন ৫/৬ হাজার টাকার পানের খিলি বিক্রি করে লাভ হয় ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা। আর তা দিয়েই চলে আমার সংসার।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৪ মার্চ ২০১৮/রুহুল আমিন